ফলো করুন
অপরাধ

দীর্ঘ ৫ বছর পর বাড়ি ফিরেই চরম নৃশংসতা: যশোরে বটি দিয়ে মাকে হত্যা করল শিক্ষক ছেলে

ছবি: রিপোর্টার কর্তৃক সংগ্রহ

যশোর সদর উপজেলার বাজে দুর্গাপুর গ্রামে পারিবারিক বিরোধের জেরে আনোয়ারা বেগম (৫৮) নামে এক বৃদ্ধাকে ধারালো বটি দিয়ে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর ছেলে মামুনুর রশিদ ওরফে মামুনের (৪৫) বিরুদ্ধে।​গতকাল বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নিজ বাড়িতে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত শিক্ষক ছেলেকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ​নিহত আনোয়ারা বেগম বাজে দুর্গাপুর গ্রামের মৃত আলতাফ হোসেন মাস্টারের স্ত্রী। অভিযুক্ত মামুনুর রশিদ স্থানীয় লাউজানী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক।



​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত মামুনের পূর্বে দুটি বিয়ে হলেও পারিবারিক ও দাম্পত্য কলহের কারণে দুটি সংসারই বিচ্ছেদে গড়ায়। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই মায়ের সঙ্গে মামুনের বিবাদ চলছিল। ইতিপূর্বেও বিভিন্ন সময়ে পারিবারিক বিষয়াদি নিয়ে মায়ের সঙ্গে তাঁর একাধিকবার বাকবিতণ্ডা ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে।এলাকাবাসী জানান, পারিবারিক অশান্তি ও হতাশাজনিত কারণে মামুন দীর্ঘদিন মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। প্রায় তিন বছর আগে তাঁকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে ভর্তি রেখে দুই থেকে তিন মাস চিকিৎসাও করানো হয়। দীর্ঘ প্রায় পাঁচ বছর ধরে তিনি বাড়ি থেকে বাইরে অবস্থান করছিলেন।



​পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বিকেলে দীর্ঘদিন পর বাড়ি ফেরেন মামুন। বাড়িতে আসার পর মায়ের সঙ্গে কথাবার্তার একপর্যায়ে পুরোনো পারিবারিক বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে হাতাহাতি ও উচ্চবাচ্য শুরু হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে গৃহস্থালি কাজে ব্যবহৃত ধারালো বটি দিয়ে নিজ মায়ের ওপর হামলা চালান মামুন। ঘাড় ও শরীরে অতর্কিত কোপ দিলে ঘটনাস্থলেই আনোয়ারা বেগমের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।



​প্রতিবেশীরা চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে এলে অভিযুক্ত মামুন সেখান থেকে সরে যান। খবর পেয়ে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে হেফাজতে নেয়।



​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন জানান, "সংবাদ পাওয়ার পরপরই পুলিশ বাজে দুর্গাপুর গ্রামের ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।তিনি আরও জানান, অভিযুক্ত শিক্ষক মামুনুর রশিদ বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। জোড়া পারিবারিক বিচ্ছেদ ও মানসিক অসুস্থতার বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

আরও পড়ুন

এই প্রতিবেদনটি কেমন লাগলো?

মোট রিঅ্যাকশন:

মন্তব্য ()

সাইন-ইন
নাম ও ইমেইল প্রদান করা বাধ্যতামূলক

দ্রষ্টব্য: প্রতিটি মন্তব্য পর্যালোচনা করা হয়। অপ্রাসঙ্গিক ও আপত্তিকর মন্তব্য প্রকাশিত হয় না।

পরবর্তী ভিডিও