সোর্স না কি ত্রাস? গোদাগাড়ীতে সাংবাদিককে মাদক দিয়ে ফাঁসানোর ভয়ংকর হুমকি
সাংবাদিককে হত্যার চ্যালেঞ্জ! গোদাগাড়ীতে কথিত 'সোর্স' বুলবুলের বেপরোয়া তাণ্ডব।
প্রতিনিধি গোদাগাড়ী (রাজশাহী)রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন সাংবাদিক মোঃ রবিউল ইসলাম মিনাল। এক অসহায় কিশোরকে মানবিক সহায়তা করতে গিয়ে তিনি এখন মাদক কারবারি ও কথিত ‘প্রশাসনের সোর্স’ পরিচয়ধারী মোঃ বুলবুল আহমেদ (২৬)-এর টার্গেটে পরিণত হয়েছেন। তাকে প্রাণনাশের হুমকি, মাদক দিয়ে ফাঁসানোর ষড়যন্ত্র এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ অপপ্রচারের অভিযোগে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
গত ৪ জানুয়ারি গোদাগাড়ী উপজেলার মাদারপুর গ্রামে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে ১০০ গ্রাম হেরোইন ও ৩৬৫ পিস ইয়াবাসহ আবু সাঈদ মিলন ও তার স্ত্রী আমেনা বেগম মুক্তি গ্রেফতার হন। গত ১৯ জানুয়ারি মুক্তির ছেলে 'জই' তার মায়ের জব্দকৃত মোবাইল ফোন উদ্ধারে সাংবাদিক মিনালের সহযোগিতা চায়। মানবিক কারণে মিনাল তাকে নিয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের 'ক' সার্কেল অফিসে যান। সেখানে দায়িত্বরত উপ-পরিদর্শক আল-আমিন জানান, ফোনগুলো ইতোমধ্যে মাদারপুর গ্রামের খোরশেদ আলমের ছেলে বুলবুল আহমেদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
পরবর্তীতে বুলবুল আহমেদ ফোন ফেরত দেওয়ার কথা স্বীকার করলেও, এর পর থেকেই সে সাংবাদিক মিনালের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। গত ২২ জানুয়ারি থেকে বুলবুল তার ফেসবুক আইডিতে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মানহানিকর স্ট্যাটাস দিতে শুরু করে। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে তা ভয়াবহ রূপ নেয়। "Bulbul Ahammed" নামক আইডি থেকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, মাদক দিয়ে ফাঁসানো এবং সরাসরি হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি গোদাগাড়ী গোল চত্বরে সাংবাদিককে দেখে নেওয়ার চ্যালেঞ্জও ছুড়ে দেয় সে।
এই ঘটনায় নিজের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে সাংবাদিক রবিউল ইসলাম মিনাল গত ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে গোদাগাড়ী মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন (আবেদন ট্র্যাকিং নং: Y0TP9X)।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ২৬ বছর বয়সী বুলবুল আহমেদ এলাকায় প্রশাসনের 'সোর্স' পরিচয় দিয়ে দাপট দেখিয়ে বেড়ায়। তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার আড়ালে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এমনকি মানুষের বাড়িতে মাদক রেখে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তার এই বেপরোয়া আচরণের কারণে স্থানীয় সাধারণ মানুষ কথা বলতে সাহস পায় না।
একজন মাদক মামলার আসামির জব্দকৃত মোবাইল ফোন (আলামত) কীভাবে একজন সাধারণ ব্যক্তির (বুলবুল) জিম্মায় গেল, তা নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহল মনে করছেন, এর পেছনে কোনো বড় চক্রের হাত থাকতে পারে।
এই প্রতিবেদনটি কেমন লাগলো?
মন্তব্য ()
সাইন-ইনদ্রষ্টব্য: প্রতিটি মন্তব্য পর্যালোচনা করা হয়। অপ্রাসঙ্গিক ও আপত্তিকর মন্তব্য প্রকাশিত হয় না।