ফলো করুন
অপরাধ

বারহাট্টায় দলিল জালিয়াতি করে জমি দখলের অভিযোগ; কাঠগড়ায় নেত্রকোণার খাদ্য পরিদর্শক ববি

ছবি: রিপোর্টার কর্তৃক সংগ্রহ

সিনেমার গল্পকেও হার মানায় এমন এক জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে নেত্রকোণার বারহাট্টা উপজেলার রায়পুর গ্রামে। ২০১০ সালে মারা যাওয়া এক ব্যক্তিকে ২০১১ সালের দলিলে জীবিত ও বিক্রেতা সাজিয়ে ১৪ শতাংশ জমি লিখে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এক খাদ্য পরিদর্শকের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী ওয়ারিশরা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।



​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বারহাট্টা উপজেলার রায়পুর মৌজার ১৪ শতাংশ জমির প্রকৃত মালিক ছিলেন মুক্তুল হোসেন ও তাঁর স্ত্রী হাসনা বানু। নিঃসন্তান অবস্থায় এই দম্পতির মৃত্যুর পর তাঁদের বৈধ ওয়ারিশরা জমির মালিকানা দাবি করেন।অভিযোগ উঠেছে, ২০১০ সালে মারা যাওয়া আব্দুর রহমান নামের এক ব্যক্তিকে ২০১১ সালের একটি দলিলে জীবিত দেখিয়ে জমির বিক্রেতা বানানো হয়। একই দলিলে নজরুল ইসলাম নামের আরেক জীবিত ব্যক্তিকে বিক্রেতা দেখানো হলেও, তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে দাবি করেছেন। এই কথিত জাল দলিলের মাধ্যমে জমিটি নিজেদের নামে রেজিস্ট্রি করে নেন নেত্রকোণা জেলা খাদ্য পরিদর্শক দীপায়ন দত্ত মজুমদার ববি এবং তাঁর চাচাতো ভাই সুমন দত্ত মজুমদার।



​ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, স্থানীয় ভূমি অফিস, দলিল লেখক ও তৎকালীন সাব-রেজিস্ট্রারের যোগসাজশে রেজিস্ট্রি অফিসের বাইরে একটি ব্যক্তিগত বাড়িতে বসে এই জালিয়াতির দলিল সম্পাদন করা হয়। এই ঘটনায় প্রকৃত ওয়ারিশ জেসমিন আক্তার আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। এছাড়া, অভিযুক্তদের বক্তব্য নিতে গেলে সাংবাদিককে টাকা দিয়ে ম্যানেজ করার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।



​অভিযোগের বিষয়ে নেত্রকোণা জেলা খাদ্য পরিদর্শক দীপায়ন দত্ত মজুমদার ববি বলেন, "আমরা দুই ভাই মুক্তুল হোসেনের ওয়ারিশান বিআরএস অনুযায়ী উনার ভাগ্নেদের কাছ থেকে জমিটি কিনেছি। ২০১১ সালে ছবিযুক্ত দলিল বারহাট্টা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসেই হয়েছে, এখানে জালিয়াতির কোনো সুযোগ নেই। আদালতে প্রমাণ সাপেক্ষে বিজ্ঞ বিচারক রায় না দেওয়া পর্যন্ত আইনের দৃষ্টিতে এটি বৈধ দলিল। দলিল জাল প্রমাণ করতে হলে দেওয়ানি আদালতে বাতিল করতে হবে, এর আগে নয়।



​এ বিষয়ে বারহাট্টা উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার জানান, জমি বা সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকায় আইনগত বাধ্যবাধকতার কারণে তাঁরা আদালতের চূড়ান্ত রায়ের জন্য অপেক্ষা করছেন। কোর্টের রায় পাওয়া গেলেই কেবল সেই অনুযায়ী পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব। অন্যদিকে, বারহাট্টা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ সাজেদুল ইসলাম জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে পুরোপুরি অবগত নন, তবে খোঁজ নিয়ে বিস্তারিত জেনে নিবেন। ​জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন মামলার বাদী জেসমিন আক্তার।

আরও পড়ুন

এই প্রতিবেদনটি কেমন লাগলো?

মোট রিঅ্যাকশন:

মন্তব্য ()

সাইন-ইন
নাম ও ইমেইল প্রদান করা বাধ্যতামূলক

দ্রষ্টব্য: প্রতিটি মন্তব্য পর্যালোচনা করা হয়। অপ্রাসঙ্গিক ও আপত্তিকর মন্তব্য প্রকাশিত হয় না।

পরবর্তী ভিডিও