ভুয়া পরিচয়ে এক যুগের অপরাধ! পতেঙ্গায় 'ডান্স মাস্টার' মুরাদের নারী সরবরাহ সিন্ডিকেট
কামাল হোসেন প্রতিনিধি (চট্টগ্রাম)
বন্দরনগরী চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকায় ডান্স ক্লাবের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে চলছে রমরমা নারী ব্যবসা। আর এই অন্ধকার সিন্ডিকেটের নেপথ্যে রয়েছে ‘ডান্স মাস্টার’ খ্যাত এক ব্যক্তি, যার নাম মুরাদ। নিজেকে কখনো পুলিশ, কখনো সাংবাদিক, আবার কখনো কোর্টের কর্মকর্তা কিংবা মানবাধিকার কর্মী পরিচয় দিয়ে সে এই অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। সম্প্রতি এক নারীর সাথে মুরাদের একটি আপত্তিকর কল রেকর্ড ফাঁস হওয়ার পর এই দীর্ঘদিনের অন্ধকার সাম্রাজ্যের থলের বিড়াল বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় ধরে পতেঙ্গা এলাকাকে কেন্দ্র করে বিশাল এক নারী সাপ্লাইয়ের শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে এই মুরাদ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অডিও ক্লিপটিতে মুরাদকে এক নারীর সাথে অনৈতিক চুক্তি এবং নিজের কথিত ক্ষমতার দাপট দেখাতে শোনা যায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো পতেঙ্গা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এরপরই অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে তার প্রায় ১২ বছরেরও বেশি সময়ের অপরাধের নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ডান্স মাস্টার মুরাদের নিজ জেলা চট্টগ্রাম না হলেও সে পতেঙ্গা এলাকাকে নিজের অপরাধের নিরাপদ আস্তানা হিসেবে বেছে নিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করতে বা নিজের প্রভাব জাহির করতে সে প্রতিনিয়ত পরিচয় বদলায়। কখনো নিজেকে পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বা সোর্স পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখায়। কখনো কখনো তথাকথিত গণমাধ্যমকর্মী বা মানবাধিকার নেতার কার্ড ঝুলিয়ে নিজের অপরাধ আড়াল করার চেষ্টা করে।
মুরাদ একা নয়, তার এই অশুভ সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখতে পতেঙ্গায় সক্রিয় রয়েছে একটি বিশাল সংঘবদ্ধ চক্র। অনুসন্ধানে দেখা যায়, এই চক্রের সাথে জড়িয়ে রয়েছে:
১. কতিপয় নামধারী অনলাইন সাংবাদিক: যারা মুরাদের অপরাধের ঢাল হিসেবে কাজ করে এবং কেউ প্রতিবাদ করলে সংবাদ প্রকাশের ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের মুখ বন্ধ রাখতে বাধ্য করে।
২. ভুঁইফোড় মানবাধিকার কর্মী: যারা অর্থের বিনিময়ে মুরাদকে আইনি ও সামাজিক সুরক্ষার আশ্বাস দিয়ে থাকে।
৩. স্থানীয় কিছু অসাধু চক্র: স্থানীয় কিছু সংগঠনের অসাধু নেতাকর্মীদের ছত্রছায়ায় মুরাদ দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ ব্যবসা নির্বিঘ্নে চালিয়ে আসছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পতেঙ্গার কয়েকজন বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, "ডান্স শেখানোর নাম করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে গরিব ও অসহায় মেয়েদের নিয়ে আসা হয়। পরে তাদের ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এবং ব্ল্যাকমেইল করে এই দেহ ব্যবসায় বাধ্য করা হয়। এদের খুঁটির জোর এতো শক্ত যে, সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করার সাহস পায় না।
একটি ডান্স ক্লাবের আড়ালে কীভাবে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে এমন অপকর্ম সগৌরবে চলতে পারে, তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রামের সচেতন নাগরিক সমাজ। এই সংঘবদ্ধ চক্রের মূল হোতা ‘ডান্স মাস্টার’ মুরাদ এবং তার পেছনের মদদদাতাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জন্য সিএমপি ও পতেঙ্গা থানা পুলিশের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।
এই প্রতিবেদনটি কেমন লাগলো?
মন্তব্য ()
সাইন-ইনদ্রষ্টব্য: প্রতিটি মন্তব্য পর্যালোচনা করা হয়। অপ্রাসঙ্গিক ও আপত্তিকর মন্তব্য প্রকাশিত হয় না।