ফলো করুন
অপরাধ

রমজানেও চলত চাল-তেলের লোভ দেখিয়ে জুয়া; ওসির অভিযানে ধরাশায়ী মূলহোতা হালিম

কোতোয়ালিতে ওসির ঝটিকা অভিযানে সিআরবি ফাঁড়ির কাছেই লটারির নামে চলা জুয়ার আসর গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, গ্রেফতার মূলহোতা হালিম।

ছবি: ফেইসবুক থেকে সংগৃহীত

চট্টগ্রাম মহানগরীর কোতোয়ালি থানাধীন গোয়াল পাড়া এলাকায় দীর্ঘদিনের সাজানো জুয়ার আসর গুঁড়িয়ে দিয়েছে পুলিশ। পবিত্র রমজান মাসে অসহায় দিনমজুর ও সাধারণ মানুষকে লটারির প্রলোভন দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়া এই চক্রের মূল হোতা হালিম-কে আটক করা হয়েছে। কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফতাব উদ্দিন-এর সরাসরি হস্তক্ষেপে ও নির্দেশে এই সফল অভিযান পরিচালিত হয়।



​সরেজমিনে দেখা যায়, সিআরবি পুলিশ ফাঁড়ির মাত্র ২০০ গজ দূরে গোয়াল পাড়া বাজারের পূর্ব পাশে রাস্তার ওপর দীর্ঘ দিন ধরে হালিম ও তার সহযোগীরা লটারির নামে প্রকাশ্য জুয়া চালিয়ে আসছিল। তারা ভ্যানের ওপর চাল, ডাল, আটা ও তেলের পসরা সাজিয়ে সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করত। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাধারণ মানুষকে প্রলুব্ধ করতে তারা কিছুক্ষণ পরপর নিজেদের 'সেটিং করা' লোকজনকে ২৫-৫০ কেজির চালের বস্তা বা ৫ লিটার তেল পুরস্কার দেওয়ার নাটক সাজাত। তাদের এই ফাঁদে পড়ে নিম্নআয়ের মানুষ ও মহিলারা সারা দিনের আয়ের টাকা হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছিলেন।



​জুয়ার এই রমরমা কারবার সম্পর্কে সংবাদকর্মীরা কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফতাব উদ্দিনকে অবহিত করলে তিনি তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেন। তিনি প্রতিবেদককে ফোনে লাইনে রেখেই ডিউটি অফিসারকে নির্দেশ দেন এবং ফোর্স পাঠিয়ে দ্রুত হালিমকে আটক করেন। ওসির এমন সাহসী ও আপসহীন ভূমিকায় এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে।



​আটক হালিম দাবি করেছে, সে সিআরবি পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়মিত ‘কোটা’ বা মাসোহারা দিয়ে এই ব্যবসা পরিচালনা করত। এই বাণিজ্যের সাথে ফাঁড়ির কনস্টেবল রিয়াজের (যিনি ক্যাশিয়ার হিসেবে পরিচিত) নাম জড়িয়েছে। তবে এ বিষয়ে কনস্টেবল রিয়াজ বলেন, "আমি এগুলোর ব্যাপারে কিছু জানি না, আমি একজন নিয়মিত কনস্টেবল মাত্র।" তবে দীর্ঘ দিন ধরে পুলিশ ফাঁড়ির নাগের ডগায় এমন অপরাধ চললেও প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।



​সারাদিনের উপার্জিত টাকা হারানো দিনমজুর হামিদ বলেন, "এখান দিয়ে গেলেই তারা জোর করে খেলতে বাধ্য করে। প্রতিবাদ করলে মারধর করার হুমকি দেয়। পবিত্র রমজানেও তারা আমাদের টাকাগুলো শুষে নিচ্ছিল।" এলাকার সুশীল সমাজ ও সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যার প্রতিকার চেয়ে আসছিলেন।



​অভিযান প্রসঙ্গে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফতাব উদ্দিন বলেন, "কোতোয়ালি থানা এলাকায় মদ, জুয়া, মাদক ও সন্ত্রাস দমনে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। সাধারণ মানুষের রক্ত চোষা অপরাধীদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধ নির্মূলে আমাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।"

আরও পড়ুন

এই প্রতিবেদনটি কেমন লাগলো?

মোট রিঅ্যাকশন:

মন্তব্য ()

সাইন-ইন
নাম ও ইমেইল প্রদান করা বাধ্যতামূলক

দ্রষ্টব্য: প্রতিটি মন্তব্য পর্যালোচনা করা হয়। অপ্রাসঙ্গিক ও আপত্তিকর মন্তব্য প্রকাশিত হয় না।

পরবর্তী ভিডিও