তদারকি ছাড়াই সীতাকুণ্ডে মৎস্য প্রজনন কেন্দ্রের উন্নয়নকাজ: ধসে পড়ার শঙ্কায় নবনির্মিত দেয়াল
নাছির উদ্দিন শিবলু সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম)
চট্টগ্রাম জেলার দুটি প্রধান মৎস্য প্রজনন কেন্দ্রের অন্যতম সীতাকুণ্ডের বড়দারগাহাট মৎস্য বীজ উৎপাদন কেন্দ্র। দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ ও লোকবলের অভাবে বন্ধ থাকার পর সম্প্রতি এই কেন্দ্রটি পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করে সরকার। সে লক্ষ্যেই পুকুর পুনঃখনন, ল্যাব স্থাপন ও জরাজীর্ণ অবকাঠামো মেরামতের কাজ শুরু হয়। তবে কেন্দ্রের সাড়ে ৬ একর জায়গার চারপাশের নিরাপত্তা বেষ্টনী (সীমানা প্রাচীর) ও গেট নির্মাণ কাজে মারাত্মক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
দরপত্রের নির্দেশনা অনুযায়ী পুরোনো কাঠামো ভেঙে নতুন ভিত্তি তৈরি করে কাজ করার নিয়ম থাকলেও তা অমান্য করে মাটির নিচে থাকা পুরোনো দেয়ালের ওপরই ইটের গাঁথুনি তোলা হচ্ছে। ফলে কোটি টাকা ব্যয়ের এই কাজের টেকসই স্থায়িত্ব নিয়ে প্রবল সংশয় দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় কেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘গ্রীন ট্রেডার্স’ শিডিউল অমান্য করে কাজের তড়িঘড়ি পার পাওয়ার চেষ্টা করছে। পুরোনো নড়বড়ে ভিত্তির ওপরই নতুন ইটের দেয়াল তোলা হচ্ছে। এছাড়া পিলার ঢালাইয়ের ক্ষেত্রে পুরোনো রডের সংযোগ ব্যবহার করা এবং পর্যাপ্ত সিমেন্ট ও মানসম্মত কংক্রিট না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। দুর্বল ভিত্তির কারণে যেকোনো সময় নবনির্মিত দেয়াল ভেঙে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন পাশের সড়ক দিয়ে চলাচলকারী পথচারীরা।
কোটি টাকার এই উন্নয়ন প্রকল্পে নিয়ম অনুযায়ী তদারকি কর্মকর্তা বা সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীর সার্বক্ষণিক উপস্থিতি বাধ্যতামূলক থাকলেও বাস্তবে কাউকে দেখা মিলছে না। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর তদারককারীদের যোগসাজশ থাকায় নির্মাণকাজে অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এতে সরকারের কোটি টাকার রাজস্ব পানিতে ভেসে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
কাজের গুণগত মান ও অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগম জানান, "কাজের মান শতভাগ নিশ্চিত করতে খামারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া রয়েছে। অনিয়মের অভিযোগগুলো গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এই প্রতিবেদনটি কেমন লাগলো?
মন্তব্য ()
সাইন-ইনদ্রষ্টব্য: প্রতিটি মন্তব্য পর্যালোচনা করা হয়। অপ্রাসঙ্গিক ও আপত্তিকর মন্তব্য প্রকাশিত হয় না।