অগ্রিম বিজয়ী অভিনন্দন: হাসনাত আব্দুল্লাহ ও নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারী
লেখক ও কলামিস্ট ওসমান এহতেসাম চট্টগ্রাম
দেশজুড়ে উত্তাপপূর্ণ এক নির্বাচনী মৌসুমে দুই বিপরীত মেরুর দুই আসনে দুজন তরুণ, গতিশীল ও রূপকথার নায়কের মতো আবির্ভূত প্রার্থী বিজয়ের দিকে এগিয়ে চলেছেন স্বতঃসিদ্ধভাবে।
কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনের হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং ঢাকা-৮ আসনের নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারী, দুজনই নিজ নিজ রাজনৈতিক অঙ্গনে বহুমাত্রিক সমীকরণ ভেঙে জনতার ম্যান্ডেট নিতে প্রস্তুত।জনাব হাসনাত আব্দুল্লাহ ও নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারী আপনাদের সাদরে বরণ করে নিতে আপনাদের নিজ নিজ আসনের জনগণ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে, তাই আমার পক্ষ থেকে সর্বপ্রথম অগ্রিম বিজয়ী শুভেচ্ছা গ্রহণ করুন।
কুমিল্লা-৪ আসনে হাসনাত আব্দুল্লাহকে এগিয়ে রেখেছে মূলত তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থীর ভুল বক্তব্য এবং জনগণের পালস বুঝতে না পারা। বিশেষ করে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর একটি বক্তব্য—‘হাসনাত আব্দুল্লাহকে চিনি না’—এই আসনের রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম এই নায়ককে ‘চিনি না’ বলাটা জনগণ অহংকার হিসেবে নিয়েছে।
অন্যদিকে, গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী জসিম উদ্দীন বিএনপির সমর্থন পাওয়ার পর ব্যক্তিগত সক্ষমতা হারিয়ে পুরোপুরি মুন্সী সাহেবের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। নির্বাচনী প্রচারণায় তাঁর তোষামদি’ আচরণ ভোটারদের মনে প্রশ্ন তুলেছেসংসদে গিয়ে তিনি কার প্রতিনিধিত্ব করবেন বিপরীতে হাসনাত আব্দুল্লাহর সাধারণ জীবনযাপন এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান তাঁকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
ঢাকা-৮ আসনে চলছে নতুন রাজনীতির এক টাইটানিক দ্বন্দ্ব। একদিকে অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ মির্জা আব্বাস, অন্যদিকে তারুণ্যের প্রতিনিধি নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারী। নাসিরুদ্দীন নির্বাচনী প্রচারণায় কৌশলী চাল চেলেছেন। তিনি মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে ‘চাঁদাবাজি’র যে অভিযোগ জনসম্মুখে এনেছেন, তা তরুণ প্রজন্ম ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে এক ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
মির্জা আব্বাসের মতো বর্ষীয়ান নেতার কর্মীরা নাসিরুদ্দীনের প্রচারণার কাউন্টার দিতে গিয়ে উল্টো তাঁর পাতা ফাঁদেই পা দিয়েছেন। কৌশলগত দিক থেকে নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারী মাঠ নিজের নিয়ন্ত্রণে নিতে সক্ষম হয়েছেন।
নির্বাচন কোনো একক দল বা ব্যক্তির উৎসব নয়; এটি রাষ্ট্রের ও জনগণের। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনগণের ম্যান্ডেটই শেষ কথা। যদিও আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ নির্বাচনকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করতে পারত, তবুও বর্তমান প্রেক্ষাপটে ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমেই নতুন নেতৃত্ব উঠে আসবে বলে প্রত্যাশা করা যায়। পরিশেষে, রাজনীতির এই কঠিন সময়ে দেশ জিতুক, গণতন্ত্র জিতুক।
এই প্রতিবেদনটি কেমন লাগলো?
মন্তব্য ()
সাইন-ইনদ্রষ্টব্য: প্রতিটি মন্তব্য পর্যালোচনা করা হয়। অপ্রাসঙ্গিক ও আপত্তিকর মন্তব্য প্রকাশিত হয় না।