ফলো করুন
রাজনীতি

"সাড়ে তিন দশকের নারী নেতৃত্বের অবসান: রাষ্ট্র সংস্কারের ‘৩১ দফা’ রূপরেখা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মসনদে তারেক রহমান"

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর পুরুষ প্রধানমন্ত্রীর যুগে বাংলাদেশ: শপথ নিলেন তারেক রহমান

ছবি: রিপোর্টার কর্তৃক সংগ্রহ

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সূচিত হলো এক ঐতিহাসিক নবদিগন্ত। দীর্ঘ সাড়ে তিন দশক পর নারী নেতৃত্বের ধারা ভেঙে দেশের শাসনভার গ্রহণ করলেন একজন পুরুষ প্রধানমন্ত্রী। গতকাল ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে বঙ্গভবনে বাংলাদেশের ১২তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর আজ থেকে রাষ্ট্র সংস্কারের নতুন রূপরেখা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছেন তিনি।

১৯৯১ সালে সংসদীয় গণতন্ত্রে ফেরার পর থেকে গত ৩৫ বছর ধরে বাংলাদেশের শাসনভার মূলত দুই নারী নেত্রী—বেগম খালেদা জিয়া এবং শেখ হাসিনার হাতে ছিল। সর্বশেষ নির্বাচিত পুরুষ প্রধানমন্ত্রী ছিলেন কাজী জাফর আহমেদ (১৯৮৯-১৯৯০)। দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে বীরের বেশে দেশে ফিরে তারেক রহমান এই প্রথার পরিবর্তন ঘটালেন।


এক নজরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান


জন্ম: ২০ নভেম্বর ১৯৬৫। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র।

নির্বাচনী জয়: ২০২৬ নির্বাচনে তিনি ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসন থেকে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নেতৃত্বে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসন লাভ করে।


পারিবারিক পরিচয়: তাঁর স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান এবং কন্যা জাইমা রহমান।



প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের এক অনন্য সমন্বয় ঘটিয়েছেন।


উপ-প্রধানমন্ত্রী: দীর্ঘ সময় পর এই পদটি পুনরায় চালু করা হয়েছে। প্রবীণ নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জ্যেষ্ঠ উপ-প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন।


প্রতিনিধিত্ব: মন্ত্রিসভায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধি এবং প্রবাসী বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।


শপথ গ্রহণের পরপরই নতুন সরকার তাদের ঘোষিত '৩১ দফা'র আলোকে রাষ্ট্র সংস্কারের কাজ শুরু করেছে। এর মধ্যে প্রধান কিছু সংস্কার


১. দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট সংসদ: আইনসভাকে শক্তিশালী করতে উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষ গঠনের উদ্যোগ।

২. ক্ষমতার ভারসাম্য: প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতা কমিয়ে রাষ্ট্রপতি ও সংসদের মধ্যে ভারসাম্য আনা। কোনো ব্যক্তি দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না।

৩. রেনবো নেশন (Rainbow Nation): ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করে বৈষম্যহীন সমাজ গড়া।

৪. বেকার ভাতা: শিক্ষিত বেকারদের জন্য 'বেকার ভাতা' এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য বিনাসুদে ঋণের ব্যবস্থা।

১৮ ফেব্রুয়ারি জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রথম ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, "দল-মত-ধর্ম নির্বিশেষে এই দেশ আমাদের সবার। আমরা কোনো প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। আমাদের লক্ষ্য একটি স্বনির্ভর, নিরাপদ ও মানবিক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা।"

তিনি আরও স্পষ্ট করেন, যারা বিএনপিকে ভোট দিয়েছেন বা দেননি, সবার অধিকার সমান। দলমত ধর্ম দর্শন যার যার, রাষ্ট্র সবার। দুর্নীতি দমনে তিনি 'জিরো টলারেন্স' নীতি ঘোষণা করেন।

আরও পড়ুন

এই প্রতিবেদনটি কেমন লাগলো?

মোট রিঅ্যাকশন:

মন্তব্য ()

সাইন-ইন
নাম ও ইমেইল প্রদান করা বাধ্যতামূলক

দ্রষ্টব্য: প্রতিটি মন্তব্য পর্যালোচনা করা হয়। অপ্রাসঙ্গিক ও আপত্তিকর মন্তব্য প্রকাশিত হয় না।

পরবর্তী ভিডিও