কুমিল্লায় ধর্ষণ মামলায় জামিন মেলেনি: প্রধান আসামি রিয়াদুল কারাগারে, গ্রেপ্তার আতঙ্কে অন্য ৪ জন লাপাত্তা
প্রতিনিধি মুরাদনগর (কুমিল্লা)
বিয়ের মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে তরুণীকে কুমিল্লায় এনে ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগে করা মামলার প্রধান আসামি মো. রিয়াদুল ইসলাম (৩৫) জামিন আবেদন করতে গিয়ে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে গেছেন।
গত ১৪ অক্টোবর (বুধবার) কুমিল্লার আদালতে জামিন আবেদন নিয়ে হাজির হলে আদালত তাঁর জামিন নামঞ্জুর করে সরাসরি কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগে গত ১৪ জুলাই তদন্ত শেষে বুড়িচং থানা পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছিল আদালতের নির্দেশের পর থেকে মামলার বাকি চার আসামি নিজ এলাকা ছেড়ে লাপাত্তা রয়েছে।
বুধবার কুমিল্লার আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিনের আবেদন করেন মামলার প্রধান আসামি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে মো. রিয়াদুল ইসলাম। মামলার শুনানি শেষে বিচারক জামিন আবেদন নাকচ করে তাঁকে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী জানান, পুলিশের দাখিলকৃত তদন্ত প্রতিবেদনে আসামির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় বিচারক জামিন মঞ্জুর করেননি। বিদেশ পালানোর চক্রান্ত বানচাল ও বাকি আসামিরা আত্মগোপনে
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঘরে স্ত্রী ও সন্তান থাকা সত্ত্বেও নিজেকে অবিবাহিত পরিচয় দিয়ে তরুণীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলেন রিয়াদুল। তদন্তে পুলিশ অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর থেকে তিনি কৌশলে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তাঁর পাসপোর্টও প্রস্তুত করা ছিল এবং ভিসা প্রসেসিং চলছিল। আদালত থেকে জামিন পেয়েই বিদেশে পাড়ি জমানোর পরিকল্পনা থাকলেও আদালতের আদেশে তা বানচাল হয়ে যায়।
এদিকে মূল আসামি রিয়াদুল গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যাওয়ার পরই মামলার অন্য চার আসামি নিজ নিজ গ্রাম ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছে। পলাতক আসামিরা হলেন—মুরাদনগর উপজেলার কামাল্লা গ্রামের শরীফুল ইসলাম (৪০), রিপন সরকার (৩০), বাবুল মিয়া (৩২) এবং নিলুফা বেগম (৫০)। স্থানীয় বাসিন্দা ও বাদীপক্ষের দাবি, অন্য আসামিরাও এলাকা ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কলসী দিঘীরপাড় এলাকার বাসিন্দা নুপুর আক্তার জর্ডানে অবস্থানকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রিয়াদুলের সাথে পরিচয় হয়। একপর্যায়ে রিয়াদুল তাঁকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে দেশে এনে কুমিল্লার বুড়িচং থানার রামপুর এলাকার একটি ভাড়া বাসায় রেখে জিম্মি করেন। সেখানে ইচ্ছার বিরুদ্ধে গোপন ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল ও ধারাবাহিকভাবে ধর্ষণ করা হয়। এছাড়া মুক্তিপণ ও ভিডিও মুছে দেওয়ার নামে ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা ও সোনার অলংকার হাতিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।
গত ২২ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে কুমিল্লার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয় (মামলা নং-০৭/২০২৬)। তদন্ত শেষে বুড়িচং থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আব্দুল মজিদ সরকার প্রধান আসামি রিয়াদুলের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(খ) ধারায় অভিযোগপ্রমাণ পেয়ে চার্জশিট দেন। বাকি চার আসামির বিরুদ্ধে বাদীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকি দেওয়ার দায়ে (দণ্ডবিধির ৫০৬ ধারা) অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার বাদী ও স্থানীয় সাংবাদিকদের সূত্রে জানা গেছে, আসামি ও তাদের স্বজনেরা অত্যন্ত প্রভাবশালী হওয়ায় মামলার সাক্ষী এবং স্থানীয় সাংবাদিকদের প্রকাশ্যে নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে। এদিকে, পুলিশের দেওয়া চার্জশিটে পর্নোগ্রাফি ও চাঁদাবাজির ধারায় পর্যালোচনার অভাব রয়েছে উল্লেখ করে বাদীপক্ষ অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। বিচার পেতে তিনি শিগগিরই পুলিশি তদন্তের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি বা অধিকতর তদন্তের আবেদন করবেন বলে জানিয়েছেন।
এই প্রতিবেদনটি কেমন লাগলো?
মন্তব্য ()
সাইন-ইনদ্রষ্টব্য: প্রতিটি মন্তব্য পর্যালোচনা করা হয়। অপ্রাসঙ্গিক ও আপত্তিকর মন্তব্য প্রকাশিত হয় না।