প্রেমের ফাঁদে ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেইল: কুমিল্লার রিয়াদুলসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে পুলিশের চার্জশিট
প্রতিনিধি মুরাদনগর (কুমিল্লা)
প্রেমের সম্পর্ক ও বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে কুমিল্লার একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে তরুণীকে দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষণ এবং গোপন ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগে মূল অভিযুক্ত মো. রিয়াদুল ইসলামসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে পুলিশ।
তদন্ত শেষে গত ১৪ জুলাই আদালতে এই চার্জশিট দাখিল করা হয়। চাঞ্চল্যকর এই মামলার ১ নম্বর আসামি মো. রিয়াদুল ইসলাম (৩৫) কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে।
মামলার বাদী ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কলসী দিঘীরপাড় এলাকার বাসিন্দা নুপুর আক্তার এজাহারে উল্লেখ করেন, তাঁর স্বামী পরকীয়ায় জড়িয়ে তাঁকে বিদেশে (জর্ডান) পাঠানোর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রিয়াদুল ইসলামের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। নিজেকে নিঃসঙ্গ ও অবিবাহিত পরিচয় দিয়ে রিয়াদুল তাঁর সহানুভূতি অর্জন করেন এবং একপর্যায়ে ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনেন।
দেশে ফেরার পর কুমিল্লার বুড়িচং থানার রামপুর এলাকার একটি টিনশেড ঘর ভাড়া নিয়ে নিজেদের স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে বসবাস শুরু করেন তাঁরা। বাদীর অভিযোগ, সেই ভাড়া বাসায় তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা হয় এবং প্রতিবাদ করলে গোপনে ধারণ করা অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এভাবে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত তাঁকে ব্ল্যাকমেইল করে দফায় দফায় ধর্ষণ করা হয়। এছাড়া ভিডিও মুছে দেওয়া ও মুক্তি দেওয়ার নাম করে ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা এবং প্রায় এক ভরি স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
দীর্ঘ তদন্ত, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও ফরেনসিক আলামত পর্যালোচনার পর তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বুড়িচং থানার সাব-ইন্সপেক্টর মো. আব্দুল মজিদ আদালত অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
চার্জশিটে বলা হয়েছে, প্রধান আসামি মো. রিয়াদুল ইসলামের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(খ) ধারায় ধর্ষণের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, চাঁদাবাজি এবং যৌথ অপরাধের সুনির্দিষ্ট আইনি উপাদান বা জোরালো প্রমাণ প্রাথমিক তদন্তে না পাওয়ায় ওই ধারাগুলো অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
অন্যদিকে, মামলার ২ থেকে ৫ নম্বর আসামি যথাক্রমে শরীফুল ইসলাম (৪০), রিপন সরকার (৩০), বাবুল মিয়া (৩২) এবং নিলুফা বেগমকে (৫০) দণ্ডবিধির ৫০৬ ধারায় প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অপরাধে অভিযুক্ত করা হয়েছে। বাদীপক্ষ দাবি করেছেন, আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় এবং স্থানীয়ভাবে বিচার চাইতে গেলে তাঁদের হাতে তিনি হেনস্তার শিকার হন। বাদী এই রায়ের বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ করে ন্যায়বিচার পেতে পুনরায় নারাজি বা অধিকতর তদন্তের আবেদন করবেন বলে জানিয়েছেন।
এদিকে এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রধান অভিযুক্ত রিয়াদুলের পূর্বে স্ত্রী ও সন্তান থাকা সত্ত্বেও তিনি নিজেকে অবিবাহিত বলে পরিচয় দিয়ে এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়েছেন। তাঁর এমন আচরণে এলাকার সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় সচেতন মহল গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, পুলিশের তদন্তে সত্যতা পাওয়ার পর থেকে অভিযুক্ত রিয়াদুল পুনরায় বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার জন্য পাসপোর্টের প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছেন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
এই প্রতিবেদনটি কেমন লাগলো?
মন্তব্য ()
সাইন-ইনদ্রষ্টব্য: প্রতিটি মন্তব্য পর্যালোচনা করা হয়। অপ্রাসঙ্গিক ও আপত্তিকর মন্তব্য প্রকাশিত হয় না।