ফলো করুন
অভিযোগ

লাখ টাকার ক্যামেরা উধাও, উদ্ধার হলো অচল সিসিটিভির কঙ্কাল

ছবি: রিপোর্টার কর্তৃক সংগ্রহ

চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে প্রকাশ্যে এক সাংবাদিকের মূল্যবান মালামালসহ ব্যাগ চুরির সিসিটিভি ফুটেজ থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘ এক মাসেও চোরকে শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করতে পারেনি রেলওয়ে থানা পুলিশ। আড়াই ঘণ্টার চেষ্টায় উদ্ধার করা সিসিটিভি ফুটেজে চোরের উপস্থিতি ও গতিবিধি স্পষ্ট দেখা গেলেও ক্যামেরার চরম নিম্নমানের রেজল্যুশনের কারণে অপরাধীর চেহারা শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না।



​এই ঘটনার পর চট্টগ্রাম রেলওয়ের সামগ্রিক নিরাপত্তাব্যবস্থা, সরকারি অর্থে বসানো সিসিটিভি ক্যামেরার নিম্নমান, রেকর্ডিং ব্যবস্থার অকার্যকারিতা ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের চরম অবহেলা নিয়ে তীব্র প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।



​গত ৬ আগস্ট রাতে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের টিকিট কাউন্টারের সামনে এ চুরির ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী সাংবাদিক ও লেখক ওসমান গনি (ওসমান এহতেসাম) জানান, স্টেশনে প্রবেশের পর টিকিট কাউন্টারের পাশের যাত্রী বিশ্রামাগার থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি তাঁর একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাগ চুরি করে নিয়ে যায়।



​খোয়ানো ব্যাগে পেশাগত কাজে ব্যবহৃত প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্যের 'Sony Alpha 7S III' ডিজিটাল ক্যামেরা, 'Face the People' লোগো সংবলিত মাইক্রোফোন, চার্জার, গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক কাগজপত্র এবং নগদ ৬১ হাজার ৫০০ টাকা ছিল। ঘটনার পরপরই চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ওই সাংবাদিক।



​অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ও ভুক্তভোগী আড়াই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ উদ্ধারে সফল হলেও রেলওয়ের সিসিটিভি নজরদারির ভয়াবহ অব্যবস্থাপনা প্রকাশ্যে আসে।



​ভুক্তভোগী সাংবাদিক ওসমান এহতেসাম অভিযোগ করে বলেন, "তদন্তের সময় দেখা যায় একটি মনিটর সম্পূর্ণ অচল। অন্য মনিটরে দৃশ্য দেখা গেলেও তাতে কোনো রেকর্ডিং হচ্ছিল না। আর যে সচল ক্যামেরাটির ফুটেজ পাওয়া গেছে, তার মান এতই নিম্নমানের যে চোরের মুখমণ্ডল চেনার উপায় নেই।



​তিনি আরও সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, "চোর কি আগে থেকেই জানত কোন ক্যামেরা অচল আর কোনটি সচল? সে যেভাবে অকার্যকর ক্যামেরার পাশ দিয়ে যাতায়াত করেছে, তাতে চোরচক্রের সঙ্গে রেলওয়ের ভেতরের কারও যোগসাজশ থাকা অস্বাভাবিক নয়।



​রেলওয়ে স্টেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল সরকারি স্থাপনায় সিসিটিভি ক্যামেরার এমন বেহাল দশা সাধারণ যাত্রীদের নিরাপত্তাকেও বড় ধরনের ঝুঁকিতে ফেলছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। তদন্তের ব্যর্থতার পাশাপাশি সিসিটিভি ক্রয়ে অনিয়ম ও কম দামি অকার্যকর যন্ত্রাংশ ব্যবহারের বিষয়গুলোও তদন্তের দাবি উঠেছে।



​তবে চোরচক্রের সঙ্গে কোনো কর্মচারীর সংশ্রবের বিষয়টি অস্বীকার করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানার সেকেন্ড অফিসার সহদেব কুমার সরকার বলেন, "আমরা চোর শনাক্ত ও মালামাল উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ফুটেজ অস্পষ্ট থাকায় কিছুটা বেগ পেতে হলেও আমাদের কাজ থেমে নেই।



​সিসিটিভি ও ফুটেজ দুটিই বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও এক মাসে চোর শনাক্ত না হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে—স্টেশনের নিরাপত্তায় বসানো এসব ক্যামেরা আসলে কার সুরক্ষায় কাজ করছে?

আরও পড়ুন

এই প্রতিবেদনটি কেমন লাগলো?

মোট রিঅ্যাকশন:

মন্তব্য ()

সাইন-ইন
নাম ও ইমেইল প্রদান করা বাধ্যতামূলক

দ্রষ্টব্য: প্রতিটি মন্তব্য পর্যালোচনা করা হয়। অপ্রাসঙ্গিক ও আপত্তিকর মন্তব্য প্রকাশিত হয় না।