ফলো করুন
অভিযোগ

শার্শায় তালা ভেঙে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ঘরবাড়ি দখল ও গাছ কাটার অভিযোগ, থানায় মামলা

ছবি: রিপোর্টার কর্তৃক সংগ্রহ

যশোরের শার্শায় বিজ্ঞ আদালতের জারি করা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সংখ্যালঘু খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের একটি পরিবারের বসতভিটা জবরদখল করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে। দখলকারীরা বাড়ির মূল প্রবেশদ্বার বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি ঘরের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে গাছপালা কেটে নিয়েছে বলে জানা গেছে।



​গত শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে শার্শা উপজেলার বড়বসন্তপুর খ্রিষ্টানপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মতি বিশ্বাস (৬৫) বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে শার্শা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।



​অভিযোগে নামীয় অভিযুক্তরা হলেন—পাড়িয়ারঘোপ গ্রামের হাজী শহর আলীর দুই ছেলে আব্দুল আজিজ ও আবু বক্কর সিদ্দিক এবং কন্দর্পপুর গ্রামের ইসলাম আলীর দুই ছেলে বাবুর আলী ও তাঁর ভাই লতা।



​থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০০৪ সালে শার্শার বড়বসন্তপুর খ্রিষ্টানপাড়ার মৃত হরিপদ বিশ্বাসের ছেলে মতি বিশ্বাস মিজানুর রহমান নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ২০ শতক বসতভিটা কোবলা দলিলমূলে ক্রয় করেন। জমিটি তাঁর নামে নামজারি ও রেকর্ডভুক্ত রয়েছে এবং তিনি চলতি বছরেও খাজনা পরিশোধ করেছেন।



​ভুক্তভোগী মতি বিশ্বাস জানান, ২০১৩ সালে কন্দর্পপুর গ্রামের বাবুর আলী তাঁর এই জমি দখলের চেষ্টা করলে তিনি আদালতে মামলা দায়ের করেন, যা এখনও বিচারাধীন। পরবর্তীতে বাবুর আলী গোপন জাল কাগজপত্র তৈরি করে উক্ত জমি পাড়িয়ারঘোপ গ্রামের বিদেশ প্রবাসী আব্দুল আজিজের কাছে বিক্রি করে দেন।



​এ ঘটনার পর মতি বিশ্বাস যশোর বিজ্ঞ আদালতে মামলা করলে আদালত বিতর্কিত ওই জমিতে ১৪৪ ধারা জারি করেন। শার্শা থানা-পুলিশ দুই পক্ষকে আদালতের নির্দেশ মানতে এবং বিরোধপূর্ণ জমিতে প্রবেশ না করার জন্য নোটিশ প্রদান করে।



​অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, আদালতের নির্দেশ ও পুলিশের মানা সত্ত্বেও গত শনিবার বিকেলে আব্দুল আজিজ ও আবু বক্কর সিদ্দিক স্থানীয় কিছু প্রভাবশালীদের সাথে নিয়ে মতি বিশ্বাসের বসতভিটায় অনাধিকার প্রবেশ করেন। তাঁরা ঘরের তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন এবং যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করে দেন। এছাড়া জমিতে থাকা আনুমানিক ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ৬টি বড় গাছ কেটে নিয়ে যান।



​ভুক্তভোগী মতি বিশ্বাস ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আদালতের ১৪৪ ধারা জারীকৃত ও মামলা চলমান জমি কীভাবে রেজিস্ট্রি হলো বুঝতে পারছি না। বর্তমানে দুর্বৃত্তরা আমাদের পরিবারকে খুন-জখমের হুমকি দিচ্ছে। আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।



​এ বিষয়ে শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক জানান, "আদালতের ১৪৪ ধারা অমান্য করে বসতভিটা দখলের বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে অপরাধী যেই হোক না কেন, তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন

এই প্রতিবেদনটি কেমন লাগলো?

মোট রিঅ্যাকশন:

মন্তব্য ()

সাইন-ইন
নাম ও ইমেইল প্রদান করা বাধ্যতামূলক

দ্রষ্টব্য: প্রতিটি মন্তব্য পর্যালোচনা করা হয়। অপ্রাসঙ্গিক ও আপত্তিকর মন্তব্য প্রকাশিত হয় না।