হাসনাত আবদুল্লাহ: রাজপথ থেকে সংসদ, এক নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক মহানায়ক
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম মহাকাব্যিক চরিত্র এবং বর্তমান বাংলাদেশের রাজনীতির এক নতুন ধ্রুবতারা হাসনাত আবদুল্লাহ
সম্পাদকীয়২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের রক্তাক্ত বিপ্লব বাংলাদেশের ইতিহাসে যে ক’জন নতুন নায়কের জন্ম দিয়েছে, তাদের মধ্যে অন্যতম হাসনাত আবদুল্লাহ। যিনি নিছক একজন ছাত্রনেতা থেকে আজ জাতীয় রাজনীতির এক অপরিহার্য ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন। গতকাল ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসন থেকে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন, তারুণ্যের শক্তির কাছে প্রচলিত রাজনীতির কোনো সমীকরণই টেকসই নয়।
হাসনাত আবদুল্লাহ জন্ম কুমিল্লার দেবীদ্বারের এক সাধারণ পরিবারে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের মেধাবী ছাত্র ছিলেন। সাধারণ এক মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হিসেবে তার বেড়ে ওঠা এবং নিজের বাবার রাজমিস্ত্রি পরিচয়টি তিনি সগৌরবে জনসম্মুখে প্রকাশ করেন। তার এই সততা ও সাধারণ জীবনযাপন তাকে দেশের কোটি তরুণের আইকনে পরিণত করেছে।
২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন যখন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রূপ নেয়, তখন হাসনাত আবদুল্লাহ অন্যতম প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে আবির্ভূত হন। বিশেষ করে ৫ আগস্টের আগে ও পরে তার জ্বালাময়ী বক্তব্য, সাহসিকতা এবং রাজপথের সক্রিয় উপস্থিতি আন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। সাধারণ একটি 'জার্সি' গায়ে দিয়ে রাজপথে দাঁড়িয়ে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে তার লড়াইয়ের চিত্র আজ প্রতিটি স্বাধীনতাকামী মানুষের মনে গেঁথে আছে।
নির্বাচনী সমীকরণে হাসনাত আবদুল্লাহ কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এই আসনে তার প্রধান চ্যালেঞ্জ ছিল দীর্ঘদিনের প্রবীণ রাজনীতিবিদদের দাম্ভিকতা এবং প্রচলিত রাজনৈতিক গ্রুপিং। কিন্তু হাসনাত কোনো দল বা প্রতীকের চেয়ে নিজের কাজ এবং জনসম্পৃক্ততাকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।
তিনি নির্বাচনী প্রচারণায় প্রতিশ্রুতি দেওয়ার চেয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে তার সরাসরি অ্যাকশনকে ভোটারদের সামনে তুলে ধরেছেন। দেবীদ্বারের জরাজীর্ণ রাস্তায় মাছের পোনা ছেড়ে দিয়ে দুর্নীতির প্রতিবাদ জানানো কিংবা সরাসরি ঠিকাদারদের কাজের তদারকি করার মতো অভিনব কাজগুলো তাকে সাধারণ মানুষের ‘ত্রাতা’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
হাসনাত আবদুল্লাহর অনন্য বৈশিষ্ট্য
অকুতোভয় সত্যবাদিতা: তিনি নিজের অতীত ও পরিবারের পরিচয় নিয়ে কোনো লুকোছাপা করেন না।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স: নির্বাচিত হওয়ার আগেই তিনি এলাকায় সরকারি কর্মকর্তাদের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বাধ্য করেছেন।
তারুণ্যের কণ্ঠস্বর: তিনি বিশ্বাস করেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আনতে হলে তরুণদের নেতৃত্ব অপরিহার্য।
প্রতীক ছাড়িয়ে জনপ্রিয়তা: কোনো বড় রাজনৈতিক দলের সরাসরি ব্যানারে না থেকেও তিনি যেভাবে বিশাল জনসমর্থন তৈরি করেছেন, তা বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিরল।
সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর হাসনাত আবদুল্লাহর কাঁধে এখন বড় দায়িত্ব। দেবীদ্বারকে একটি মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি জাতীয় সংসদে তিনি তারুণ্যের দাবিসমূহ তুলে ধরবেন। শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণই হবে তার আগামীর পথচলা।
এই প্রতিবেদনটি কেমন লাগলো?
মন্তব্য ()
সাইন-ইনদ্রষ্টব্য: প্রতিটি মন্তব্য পর্যালোচনা করা হয়। অপ্রাসঙ্গিক ও আপত্তিকর মন্তব্য প্রকাশিত হয় না।