ফলো করুন
বিশেষ প্রতিবেদন

ডা: শফিকুর রহমান: সেবার মনোভবে এক মানবিক ও দূরদর্শী জননেতা

মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির এক নতুন প্রতীক। পেশায় চিকিৎসক এই নেতা জামায়াতে ইসলামীকে এক উদার ও জনবান্ধব শক্তি হিসেবে পুনর্গঠন করেছেন।

ছবি: ফেইসবুক থেকে সংগৃহীত

বাংলাদেশের সমসাময়িক রাজনীতিতে যে ক'জন নেতা ধৈর্য, প্রজ্ঞা এবং তৃণমূলের সঙ্গে গভীর সংযোগের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করেছেন, তাঁদের মধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান অন্যতম। পেশায় একজন চিকিৎসক হলেও আর্তমানবতার সেবা এবং ইনসাফপূর্ণ সমাজ গঠনের স্বপ্ন তাঁকে রাজনীতির শীর্ষ নেতৃত্বে নিয়ে এসেছে। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তাঁর মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নেতৃত্ব দেশের সাধারণ মানুষের কাছে এক নতুন বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে।


ডা: শফিকুর রহমান ১৯৫৮ সালের ৩১ অক্টোবর মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম মরহুম মোহাম্মদ আবরু মিয়া এবং মাতার নাম মরহুমা খাতিবুন নেছা। মেধাবী ছাত্র হিসেবে তিনি ১৯৭৪ সালে স্থানীয় স্কুল থেকে এসএসসি এবং ১৯৭৬ সালে সিলেটের এমসি কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। এরপর ১৯৮৩ সালে সিলেট মেডিকেল কলেজ (বর্তমানে ওসমানী মেডিকেল কলেজ) থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। পেশাগত জীবনে তিনি সফল হওয়ার পাশাপাশি আর্তমানবতার সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন।


ডা: শফিকুর রহমানের রাজনৈতিক জীবনের হাতেখড়ি হয়েছিল ১৯৭৩ সালে জাসদ ছাত্রলীগের মাধ্যমে। তবে পরবর্তীতে সত্যের অনুসন্ধানে তিনি ইসলামী আদর্শের পথে অনুপ্রাণিত হন এবং ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরে যোগ দেন। ছাত্র জীবনে তিনি সিলেট মেডিকেল কলেজ শিবিরের সভাপতি এবং পরবর্তীতে সিলেট শহর শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।


১৯৮৪ সালে তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেন। তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতা ও নেতৃত্বের গুনে তিনি সিলেট মহানগরীর আমীর এবং কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৬ সালে তিনি দলের সেক্রেটারি জেনারেল নির্বাচিত হন এবং ২০১৯ সালে সারাদেশের রুকনদের সরাসরি ভোটে প্রথমবার আমিরে জামায়াত নির্বাচিত হন। তাঁর নেতৃত্বের ধারাবাহিকতায় তিনি ২০২৫-২৮ মেয়াদের জন্য পুনরায় তৃতীয়বারের মতো আমির হিসেবে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করছেন।


ডা: শফিকুর রহমানের নেতৃত্বের একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো তাঁর ‘উদার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক’ দৃষ্টিভঙ্গি। ৫ আগস্ট ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লব পরবর্তী সময়ে তিনি সারা দেশে হিন্দু মন্দির পাহারা দেওয়া, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়ানো এবং ক্ষতিগ্রস্তদের মানবিক সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি বারবার বলছেন, “বাংলাদেশ সবার; এখানে মুসলিম-অমুসলিম কোনো ভেদাভেদ নেই।


কেবল রাজনীতির মঞ্চেই নয়, ডা: শফিকুর রহমান একজন সমাজসেবক হিসেবেও সুপরিচিত। তিনি নিজ এলাকায় সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজসহ অসংখ্য শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। বন্যা, অতিমারি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে তাঁকে সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে ত্রাণ হাতে দেখা যায়।


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬-কে কেন্দ্র করে ডা: শফিকুর রহমানের নেতৃত্বাধীন জামায়াতে ইসলামী এক নতুন শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। তিনি নির্বাচনী ইশতেহারে দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়া, বেকারত্ব দূরীকরণ এবং ইসলামী মূল্যবোধের ভিত্তিতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তাঁর রাজনৈতিক দর্শন হলো—রাজনীতি হবে মানুষের কল্যাণের জন্য, ভোগের জন্য নয়।



আরও পড়ুন

এই প্রতিবেদনটি কেমন লাগলো?

মোট রিঅ্যাকশন:

মন্তব্য ()

সাইন-ইন
নাম ও ইমেইল প্রদান করা বাধ্যতামূলক

দ্রষ্টব্য: প্রতিটি মন্তব্য পর্যালোচনা করা হয়। অপ্রাসঙ্গিক ও আপত্তিকর মন্তব্য প্রকাশিত হয় না।