নাহিদ ইসলাম: ছাত্রবিক্ষোভের কণ্ঠস্বর থেকে সংসদীয় রাজনীতির নতুন কাণ্ডারি
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম রূপকার এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সফল উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম
সম্পাদকীয়বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন ধূমকেতুর নাম নাহিদ ইসলাম। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে যে পরিবর্তনের সূচনা হয়েছিল, গতকাল ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১১ আসন থেকে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। তাঁর বিজয় সেই বিপ্লবকে এক চূড়ান্ত সাংবিধানিক রূপ দিল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সফল উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন শেষে নবগঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক হিসেবে তিনি এখন দেশের সংসদীয় রাজনীতির এক শক্তিশালী স্তম্ভ।
৫ আগস্ট পরবর্তী সরকারে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে নাহিদ ইসলাম অত্যন্ত দক্ষতা ও স্বচ্ছতার পরিচয় দিয়েছিলেন। তবে রাষ্ট্র সংস্কারের স্থায়ী সমাধান হিসেবে তিনি কেবল প্রশাসনিক দায়িত্বে সীমাবদ্ধ না থেকে রাজনীতির মূলধারায় নামার সিদ্ধান্ত নেন। দেশপ্রেমিক তরুণ ও সুশীল সমাজকে সঙ্গে নিয়ে তিনি গঠন করেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির আহ্বায়ক হিসেবে তিনি সারা দেশে এক নতুন রাজনৈতিক জাগরণ সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছেন।
গতকালকের নির্বাচনে নাহিদ ইসলাম ঢাকা থেকে নির্বাচিত হয়ে সংসদ সদস্য হিসেবে নিজের অবস্থান নিশ্চিত করেছেন। তাঁর এই জয় কেবল একটি আসনের বিজয় নয়, বরং এটি প্রচলিত অপরাজনীতি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের দেওয়া এক স্পষ্ট ম্যান্ডেট। ভোটাররা মনে করছেন, এনসিপি-র ব্যানারে নাহিদ ইসলামের সংসদে যাওয়া মানেই হলো রাজপথের সেই ‘জুলাই বিপ্লবের’ দাবিগুলো এখন আইনসভায় প্রতিধ্বনিত হবে।
বিপ্লবের আপসহীন সৈনিক: ডিবি কার্যালয়ে নির্যাতন কিংবা রাজপথের বুলেট—কোনো কিছুই তাঁকে পিছু হটাতে পারেনি। তাঁর এই দৃঢ়তা আজ সংসদে তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি।
প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা: উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি সরকারি আমলাতন্ত্র ও রাষ্ট্রযন্ত্র পরিচালনার যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন, তা তাঁকে একজন পরিপক্ক রাজনীতিবিদে পরিণত করেছে।
এনসিপি-র নতুন দর্শন: ‘পুরানো ধারার রাজনীতি নয়, বরং জনগণের ক্ষমতায়ন’—এই দর্শন নিয়ে তিনি এনসিপি-কে সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছেন।
জবাবদিহিতার রাজনীতি: নাহিদ ইসলাম বারবার বলছেন, এনসিপি কোনো গতানুগতিক ক্ষমতার কাঙাল দল নয়, এটি একটি আন্দোলনের ধারাবাহিকতা যা সংসদকে জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য করবে।
নির্বাচিত হওয়ার পর এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় নাহিদ ইসলাম জানিয়েছেন, তাঁর প্রাথমিক কাজ হবে জুলাই বিপ্লবের শহিদ পরিবারগুলোর অধিকার নিশ্চিত করা এবং আহতদের পুনর্বাসন। একইসঙ্গে রাষ্ট্র সংস্কারের যে কাজ তিনি উপদেষ্টা হিসেবে শুরু করেছিলেন, তা আইন প্রণয়নের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম কেবল একজন এমপি হিসেবেই থেমে থাকবেন না। সংসদে তিনি বিরোধী কণ্ঠস্বর বা সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ‘কিং মেকার’ হিসেবে আবির্ভূত হতে পারেন। তরুণ প্রজন্মের কাছে তাঁর যে অকল্পনীয় জনপ্রিয়তা, তা তাঁকে আগামীর বাংলাদেশের শীর্ষ নেতৃত্বের আসনে নিয়ে যেতে পারে।
এই প্রতিবেদনটি কেমন লাগলো?
মন্তব্য ()
সাইন-ইনদ্রষ্টব্য: প্রতিটি মন্তব্য পর্যালোচনা করা হয়। অপ্রাসঙ্গিক ও আপত্তিকর মন্তব্য প্রকাশিত হয় না।