তারেক রহমান: তৃণমূল থেকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে প্রত্যাবর্তন
(১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান তারেক রহমান
সম্পাদকীয়বাংলাদেশের রাজনীতির এক দীর্ঘ ও কণ্টকাকীর্ণ পথ পাড়ি দিয়ে অবশেষে চূড়ান্ত বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়েছেন তারেক রহমান। ১৭ বছরের প্রবাস জীবন, অসংখ্য মামলা ও শারীরিক নির্যাতনের স্মৃতি পেছনে ফেলে তিনি আজ জাতীয় রাজনীতির অবিসংবাদিত নেতায় পরিণত হয়েছেন। গতকাল ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বাধীন বিএনপি বিপুল জনম্যান্ডেট পাওয়ায় তিনি এখন বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে সবার শীর্ষে।
তারেক রহমানের জন্ম ২০ নভেম্বর ১৯৬৫ সালে ঢাকায়। তাঁর পিতা আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মাতা তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
পারিবারিকভাবেই রাজনীতির আবহে বেড়ে ওঠা তারেক রহমানের সরাসরি রাজনীতিতে হাতেখড়ি হয় ১৯৮৮ সালে বগুড়ার গাবতলী উপজেলা বিএনপির প্রাথমিক সদস্য হিসেবে।
২০০০ সালের শুরুর দিকে তিনি দেশব্যাপী তৃণমূল সম্মেলন আয়োজন করে সাড়া ফেলেন। তাঁর এই কার্যক্রম বিএনপিকে একটি শক্তিশালী সাংগঠনিক ভিত্তি প্রদান করে। ২০০২ সালে তিনি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হন। সে সময় তিনি ‘হাওয়া ভবন’ থেকে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে তরুণ প্রজন্মের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন।
২০০৭ সালের সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তাঁকে গ্রেফতার করা হয় এবং ভয়াবহ শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। ২০০৮ সালে উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি লন্ডনে যান। দীর্ঘ ১৭ বছর তিনি সেখান থেকেই দলের হাল ধরেছিলেন। শেখ হাসিনা সরকারের আমলে তাঁর বিরুদ্ধে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলাসহ অসংখ্য মামলা ও সাজা প্রদান করা হয়, যা বিএনপি সবসময় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে এসেছে। ৫ আগস্ট ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর আদালত তাঁকে সকল সাজা থেকে খালাস প্রদান করেন।
২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর কয়েক হাজার কিলোমিটার দূরের লন্ডন থেকে বীরের বেশে ঢাকায় ফিরে আসেন তারেক রহমান। তাঁর প্রত্যাবর্তনের সময় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগম প্রমাণ করে যে, তিনি জনগণের হৃদয়ে কতটা গভীরে স্থান করে নিয়েছেন। ২০২৬ সালের ৯ জানুয়ারি তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমান নিজে বগুড়া-৬ এবং ঢাকা-১৭ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নির্বাচনী ইশতেহারে তিনি ‘পরিচ্ছন্ন রাজনীতি’, ‘জাতীয় ঐক্য’ এবং ‘সুশাসন’ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীসহ বিশ্বের প্রভাবশালী নেতারা ইতিমধেই তাঁর এই বিজয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
তারেক রহমানের আগামীর মূল লক্ষ্যসমূহ:
গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার: দেশে টেকসই গণতন্ত্র ও বাক-স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।
অর্থনৈতিক সংস্কার: দুর্নীতি দূর করে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা।
সামাজিক নিরাপত্তা: ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে প্রান্তিক মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
শিক্ষা ও প্রযুক্তি: মেয়েদের জন্য দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা এবং যুবকদের জন্য প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ।
এই প্রতিবেদনটি কেমন লাগলো?
মন্তব্য ()
সাইন-ইনদ্রষ্টব্য: প্রতিটি মন্তব্য পর্যালোচনা করা হয়। অপ্রাসঙ্গিক ও আপত্তিকর মন্তব্য প্রকাশিত হয় না।