স্ট্রোক ও হৃদ্রোগের চিকিৎসায় ফিজিওথেরাপি অপরিহার্য, চট্টগ্রামে র্যালি ও পেশাজীবীদের আইন বাস্তবায়নের দাবি
প্রতিনিধি চট্টগ্রাম
ফিজিওথেরাপি সেবার মানোন্নয়ন ও 'বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল আইন-২০১৮' অবিলম্বে বাস্তবায়নের দাবিতে চট্টগ্রামে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
'ফিজিওথেরাপি প্র্যাক্টিশনারস, চট্টগ্রাম'-এর উদ্যোগে বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ছিল— “হৃদ্রোগ ও স্ট্রোক প্রতিরোধ, ব্যবস্থাপনা ও পুনর্বাসনে ফিজিওথেরাপি ও শারীরিক কর্মকাণ্ডের ভূমিকা।
গত মঙ্গলবার আয়োজিত এ কর্মসূচিতে চট্টগ্রামের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও মেডিকেল কলেজের ফিজিওথেরাপি পেশাজীবী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, চিকিৎসক এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন। নগরীতে এক বর্ণাঢ্য র্যালি শেষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ফিজিওথেরাপি প্র্যাক্টিশনারস, চট্টগ্রামের আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিওথেরাপিস্ট মোঃ কামরুজ্জামান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক দেব দুলাল ভৌমিক।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, হৃদ্রোগ, স্ট্রোক, পক্ষাঘাত ও মেরুদণ্ডের সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে বৈজ্ঞানিক ফিজিওথেরাপি ও নিয়মিত শারীরিক কর্মকাণ্ডের বিকল্প নেই।
তবে দেশে এই সেবাকে সুসংগঠিত, নিরাপদ ও মানসম্মত করতে 'বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল আইন-২০১৮'-এর শতভাগ বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি। এ আইনের মাধ্যমে ভুয়া প্র্যাক্টিশনার রোধ, যোগ্য পেশাজীবীদের নিবন্ধন এবং মানসম্মত শিক্ষা ও সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব বলে উল্লেখ করেন তাঁরা।
সভাপতির বক্তব্যে মোঃ কামরুজ্জামান বলেন, "বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস পালনের প্রধান লক্ষ্য হলো জনগণের মাঝে এই চিকিৎসার গুরুত্ব তুলে ধরা। পেশাগত মান নিশ্চিত করতে অবিলম্বে রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল আইনের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাংবাদিক দেব দুলাল ভৌমিক বলেন, "ফিজিওথেরাপি স্রেফ ব্যথা নিরাময় নয়, এটি মানুষের স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার আধুনিকতম ব্যবস্থা। সাধারণ মানুষের মাঝে সচেনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সঠিক ফিজিওথেরাপি সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বেস্ট ফিজিওথেরাপি হসপিটালের পরিচালক আক্তার হোসেন, সংগঠনের সদস্য সচিব মোঃ শহিদ খান, মোঃ মিজানুর রহমান, মোঃ জাহেদুল ইসলাম, মোঃ ওয়াদিফ ওয়ালি ফারাবী, মোঃ খলিলুর রহমান, মোঃ এ. কে. এম. আজিজুল হক, মোঃ আহসান উদ্দিন, শামীমা নাসরীন, মোঃ কামরুল হাসান ও শারমিন আবেদা রফিকসহ স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকার সাংবাদিকবৃন্দ।
এই প্রতিবেদনটি কেমন লাগলো?
মন্তব্য ()
সাইন-ইনদ্রষ্টব্য: প্রতিটি মন্তব্য পর্যালোচনা করা হয়। অপ্রাসঙ্গিক ও আপত্তিকর মন্তব্য প্রকাশিত হয় না।