ফলো করুন
শিক্ষা

সরকারিকরণে বাধা ও বই সরবরাহ বন্ধ: এক যুগেও খোলেনি দেবিদ্বারের নোয়াপাড়া বিদ্যালয়ের তালা

দেবিদ্বারে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার শিক্ষা: ১৩ বছর ধরে বন্ধ বিদ্যালয়, অন্ধকারে দুই শতাধিক শিশু

ছবি: রিপোর্টার কর্তৃক সংগ্রহ

কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ছোটনা নোয়াপাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাব, প্রশাসনিক জটিলতা এবং কথিত ‘বিএনপি অধ্যুষিত এলাকা’ হওয়ার কারণে বিদ্যালয়টি সরকারিকরণ না হওয়ায় কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে প্রতি বছর প্রায় দুই শতাধিক শিশু প্রাথমিক শিক্ষার মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।



​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অবহেলিত এই জনপদে শিক্ষার আলো ছড়াতে ২০০৮ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। শুরুতে প্রায় দেড়শ শিক্ষার্থী নিয়মিত পাঠ গ্রহণ করত এবং এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। কিন্তু বিপত্তি ঘটে ২০১২ সালের পর। বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকা অভিযোগ করেন, এলাকার অধিকাংশ বাসিন্দা বিএনপি-সমর্থক হওয়ায় ২০১২-১৩ সালের পর থেকে উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে বই সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব ও সরকারিকরণে পরিকল্পিত বাধার কারণে বিদ্যালয়টির স্বাভাবিক কার্যক্রম ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যায়।



​দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বিদ্যালয়টি বন্ধ থাকায় স্থানীয় শিশুরা চরম বিপাকে পড়েছে। অভিভাবকদের দাবি, সরকারিকরণের জন্য একাধিকবার আবেদন করলেও কোনো অগ্রগতি হয়নি। বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় কোমলমতি শিশুদের অনেক দূরের স্কুলে যেতে হয়, যা ছোট শিশুদের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর ও ঝুঁকিপূর্ণ। যাতায়াত সমস্যার কারণে অনেক শিশু পড়াশোনায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে এবং ঝরে পড়ছে।



​শিক্ষাবিদরা মনে করেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা শিশুদের ভবিষ্যতের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর এবং এটি মানবাধিকারের লঙ্ঘন। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব বা প্রশাসনিক জটিলতার কারণে বিদ্যালয় বন্ধ থাকা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে এবং এই অবহেলিত জনপদের শিশুদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় অবিলম্বে বিদ্যালয়টি চালুর দাবি জানিয়েছেন।



​এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, “বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছি। দীর্ঘদিন কেন বিদ্যালয়টি বন্ধ ছিল এবং সরকারিকরণের আবেদনের কী অবস্থা, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

এই প্রতিবেদনটি কেমন লাগলো?

মোট রিঅ্যাকশন:

মন্তব্য ()

সাইন-ইন
নাম ও ইমেইল প্রদান করা বাধ্যতামূলক

দ্রষ্টব্য: প্রতিটি মন্তব্য পর্যালোচনা করা হয়। অপ্রাসঙ্গিক ও আপত্তিকর মন্তব্য প্রকাশিত হয় না।