রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তায় ভূগর্ভস্থ বিপ্লব
শহিদুল ইসলাম প্রতিবেদক
বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের এক দৃশ্যমান গতিপথে এগিয়ে চলেছে। অর্থনীতি, অবকাঠামো ও প্রযুক্তির প্রতিটি ক্ষেত্রে আমাদের অর্জন বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত। তবে এই অগ্রযাত্রার মাঝেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা আমাদের ভাবিয়ে তুলছে—আমরা একটি ভূমিকম্প-ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে বসবাস করছি। এমতাবস্থায় একটি প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন সামনে এসেছে: আমাদের গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনাগুলো কি বড় ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলায় যথেষ্ট প্রস্তুত?
আধুনিক প্রকৌশল বিশ্লেষণ বলছে, সঠিকভাবে পরিকল্পিত ভূগর্ভস্থ টানেল ও বাঙ্কার অনেক ক্ষেত্রে ভূমিকম্পে তুলনামূলকভাবে বেশি নিরাপদ। কারণ এগুলো মাটির স্বাভাবিক গতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নড়ে, ফলে বহুতল ভবনের মতো ভেঙে পড়ার ঝুঁকি এখানে কম। উন্নত বিশ্বের আধুনিক বাঙ্কারগুলোতে শক-অ্যাবজরবিং ডিজাইন, শক্তিশালী রিইনফোর্সড কাঠামো, নিরাপদ বায়ুচলাচল এবং বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকে। এগুলো কেবল আশ্রয়স্থল নয়, বরং সংকটকালে কার্যকর ‘কমান্ড সেন্টার’ হিসেবেও কাজ করতে পারে।
বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সঙ্গে নিরাপদ টানেল সংযুক্ত থাকার নজির রয়েছে। জরুরি পরিস্থিতিতে নীতিনির্ধারকদের দ্রুত স্থানান্তর এবং রাষ্ট্র পরিচালনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই এর মূল উদ্দেশ্য। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বঙ্গভবন কিংবা জাতীয় সংসদ ভবনের মতো কৌশলগত স্থাপনাগুলো শুধু ইমারত নয়—এগুলো রাষ্ট্র পরিচালনার কেন্দ্রবিন্দু। একটি বড় দুর্যোগে যদি নীতিনির্ধারণী পর্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে তা রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।এক্ষেত্রে একটি দূরদর্শী পদক্ষেপ হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর সঙ্গে আধুনিক ভূগর্ভস্থ টানেল ও বাঙ্কার নির্মাণ। যেখানে বিকল্প প্রবেশ ও নির্গমন পথ, নিরাপদ যোগাযোগ এবং প্রয়োজনীয় জীবনরক্ষাকারী সুবিধা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
বাংলাদেশের বন্যা ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে উন্নত জলরোধী প্রযুক্তি (Waterproofing), কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং পাম্পিং সিস্টেম নিশ্চিত করা অপরিহার্য। দেশের শীর্ষ প্রকৌশল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি বাস্তবসম্মত ও টেকসই পরিকল্পনা প্রণয়ন করা গেলে এটি অসম্ভব কিছু নয়।
সমাজের কেউ কেউ হয়তো এই ধারণাকে অতিরঞ্জিত মনে করতে পারেন। তবে দূরদর্শী নেতৃত্বের দায়িত্ব হলো ভবিষ্যতের প্রয়োজন আজই উপলব্ধি করা। এই উদ্যোগ কোনো পালানোর পথ নয়; বরং দায়িত্বশীলভাবে টিকে থাকার রাষ্ট্রীয় প্রস্তুতি। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে বড় বড় মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিশ্বকে চমকে দিয়েছে। এখন সময় এসেছে নিরাপত্তা অবকাঠামোতেও একই দূরদর্শিতা প্রদর্শনের। উন্নয়নের পাশাপাশি সুরক্ষা—এই ভারসাম্যই হতে পারে টেকসই রাষ্ট্র নির্মাণের মূল ভিত্তি। এখন প্রশ্ন একটাই: বাংলাদেশ কি সেই দূরদর্শী পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত?
এই প্রতিবেদনটি কেমন লাগলো?
মন্তব্য ()
সাইন-ইনদ্রষ্টব্য: প্রতিটি মন্তব্য পর্যালোচনা করা হয়। অপ্রাসঙ্গিক ও আপত্তিকর মন্তব্য প্রকাশিত হয় না।