পোশাক শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণে অবিলম্বে বোর্ড পুনর্গঠনের দাবি গার্মেন্টস শ্রমিক পরিষদের
অনলাইন ডেস্ক বজ্রকণ্ঠ
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (RMG) শিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের বিদ্যমান নিম্নতম মজুরি পুনর্নির্ধারণের জন্য অবিলম্বে 'নিম্নতম মজুরি বোর্ড' পুনর্গঠন ও আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরুর দাবি জানিয়েছে গার্মেন্টস শ্রমিক পরিষদ।
এ লক্ষ্যে সম্প্রতি শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রীর কাছে একটি লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন সংগঠনটির আহ্বায়ক লাভলী ইয়াসমীন ও সদস্য সচিব নাহিদুল হাসান নয়ন।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, পোশাক খাত বাংলাদেশের অর্থনীতি, রপ্তানি আয় ও কর্মসংস্থানের প্রধান চালিকাশক্তি। এই শিল্পের সাফল্যের নেপথ্যে নারী শ্রমিকসহ কোটি শ্রমিকের নিরলস শ্রম ও উৎপাদনশীলতা ভূমিকা রাখছে।
গার্মেন্টস শ্রমিক পরিষদ জানায়, ২০২৩ সালে ঘোষিত গেজেট অনুযায়ী পোশাক শ্রমিকদের বর্তমান সর্বনিম্ন মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা। তবে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ১৩৯(৬) অনুযায়ী প্রতি তিন বছর পর পর নিম্নতম মজুরি পুনর্নির্ধারণের স্পষ্ট আইনি বিধান রয়েছে। সেই বাধ্যবাধকতা থেকেই এখনই নতুন মজুরি পুনর্নির্ধারণের প্রক্রিয়া ও বোর্ড গঠন করা জরুরি।
লিখিত আবেদনে সংগঠনটি জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য, বাসাভাড়া, গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানি, চিকিৎসা ও শিক্ষার ব্যয় আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। জীবনযাত্রার আকাশচুম্বী ব্যয়ের বিপরীতে শ্রমিকদের আয় অপরিবর্তিত থাকায় পরিবার নিয়ে টিকে থাকা দুষ্কর হয়ে পড়েছে।
ঢাকা, গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়া, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামের মতো শিল্পাঞ্চলগুলোতে অধিকাংশ শ্রমিক অস্বাস্থ্যকর ও ছোট ভাড়াবাসায় বাস করতে বাধ্য হচ্ছেন। কম আয়ের কারণে অনেকে পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ, সন্তানের শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যয় কাটছাঁট করছেন কিংবা ঋণের জালে জড়িয়ে পড়ছেন।
গার্মেন্টস শ্রমিক পরিষদের ৮ দফা দাবি:
১. অবিলম্বে নিম্নতম মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন করে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করা।
২. বোর্ডে প্রকৃত ও প্রতিনিধিত্বশীল শ্রমিক প্রতিনিধি নিশ্চিত করা।
৩. শ্রমিক পরিবারের বাস্তব জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনা করে নতুন মজুরি কাঠামো তৈরি করা।
৪. পর্যায়ক্রমে জীবনধারণ উপযোগী মজুরি বা ‘লিভিং ওয়েজ’ নির্ধারণ ও মূল্যস্ফীতির সাথে নিয়মিত মজুরি সমন্বয়ের ব্যবস্থা রাখা।
৫. সাব-কন্ট্রাক্ট, ছোট ও অনিবন্ধিত কারখানাসহ সকল তৈরি পোশাক কারখানায় এই নতুন মজুরি বাস্তবায়ন করা।
৬. শ্রমিক, মালিক, সরকার ও বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে উন্মুক্ত ও স্বচ্ছ আলোচনা জোরদার করা।
৭. শ্রমিক পরিবারের জীবনযাত্রার সঠিক ব্যয় নির্ধারণে যৌথ ও অংশগ্রহণমূলক জরিপ পরিচালনা করা।
৮. নারী শ্রমিকদের ক্ষেত্রে মাতৃত্বকালীন সুযোগ-সুবিধা, স্বাস্থ্যসেবা ও শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র নিশ্চিত করা।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ জোর দিয়ে বলেন, শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি কোনো করুণা বা অনুগ্রহ নয়, বরং এটি তাঁদের সাংবিধানিক ও আইনি অধিকার। শ্রমিকের জীবনমান উন্নত হলে কারখানাগুলোতে উৎপাদনশীলতা বাড়বে এবং তৈরি পোশাক খাতের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা আরও সুদৃঢ় হবে।
এই প্রতিবেদনটি কেমন লাগলো?
মন্তব্য ()
সাইন-ইনদ্রষ্টব্য: প্রতিটি মন্তব্য পর্যালোচনা করা হয়। অপ্রাসঙ্গিক ও আপত্তিকর মন্তব্য প্রকাশিত হয় না।